বাংলাদেশের জন্য কোন ব্লক লাভজনক? Chinese bloc Or US boloc!



বর্তমান বিশ্ব বিশেষ করে দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের রাষ্ট্রসমূহ, দুইটি ব্লকে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। একটি মার্কিন নেতৃত্বাধীন ব্লক অন্যটি চীনা নেতৃত্বাধীন। 

কূটনীতিতে দেশের স্বার্থই সব। কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে অন্য দেশসমূহের উপর প্রভাব বিস্তার করে নিজ স্বার্থ হাছিলের জন্য অবশ্যই দেশসমূহের মধ্যে মিউচুয়াল ইন্টারেস্ট থাকা প্রয়োজন। 

যেই দেশের সাথে মিউচুয়াল ইন্টারেস্ট যে দেশের বেশি, সে দেশ কূটনীতির টেবিলে অন্য সকল দেশের উপর অগ্রাধিকার পাই। সে হিসেবে আমাদেরও এই দুই ব্লকের মধ্যে যেই ব্লকের সাথে আমাদের মিউচুয়াল ইন্টারেস্ট বেশি এবং আমাদের গুরুত্ব বেশি। সেই ব্লকেই অংশ নেওয়া উচিৎ। 

এখন আসি বাংলাদেশ, কোন ব্লকের নিকট বেশি গুরুত্ব পাইতে পারে! বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির কারণে বাংলাদেশের জন্য ব্লক নির্ধারণ খুবই জটিল বিষয়। বাংলাদেশ অর্থনীতির সিংহভাগ আমদানির মূল সোর্সই হলো চীন+ভারত এবং সিংহভাগ রপ্তানির গন্তব্যস্থল হলো অমেরিকা+ইউরুপ। 

▪️চীন কখনোই মিয়ানমারকে বাংলাদেশ দিয়ে রিপ্লেস করতে পারবে না। মিয়ানমারের সাথে চীনে সীমান্ত আছে, যার কারণে চীনের জন্য বঙ্গোপসাগরে এক্সেস রোডই হলো মিয়ানমার। ফলসরূপ চীন কখনোই বাংলাদেশকে মিয়ানমারের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ মনে করবে না। মিয়ানমারের সাথে আমাদের সমূদ্রেসীমা ও রুহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিরোধ রয়েছে। যেহেতু মিয়ানমার সেন্ট মার্টিন দ্বিপকে তাদের বলেই দাবী করে তাই নিকট ভবিষ্যতে মিয়ারমারের সাথে কনফ্লিক্টে যাবার সম্ভাবনা খুবই বেশি.. তেমন কোন মুহুর্তে আমরা চীনকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধেই আবিষ্কার করব। 

▪️অপরদিকে অন্য প্রতিবেশি তথা ভারত আছে চীন বিরুদ্ধী মার্কিন নেতৃত্বাধীন ব্লকে, বলতে গেলে দক্ষিণ এশিয়ায় চীন বিরুদ্ধী ব্লকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ভারত। ভারতের সাথেও আমাদের সমূদ্র সীমা ও নদীর পানি বন্টন সংক্রান্ত বিরোধ আছে। সে হিসেবে অমেরিকার নিকট ভারতের উপর কতটুকু আমাদের কতটুকু অগ্রাধিকার দিবে তা প্রশ্নবিদ্ধ। 

আমার মতে, আমাদের জন্য মার্কিন ব্লকই বেস্ট হবে, তারজন্য অবশ্যই ভারতের উপর যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতির টেবিলে অগ্রাধিকার পাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের প্রয়োজনীয়তার জানান দিতে হবে এবং নিজেদের গুরুত্ব প্রমাণ করতে হবে। 

ভারত নিজেকে বর্তমানে ওয়াল্ড পাওয়ার মনে করে, যার কারণে ভারত অনেকটা স্বাধিন মনোভাব প্রবণ পররাষ্ট্রনীতি মেইনটেইন করে চলে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অস্বস্তিকর। ভারত চীন বিরুদ্ধী মার্কিন ব্লকে থাকলেও, রাশিয়া বিমূখ হয়ে সম্পূর্ণ মার্কিন ব্লকে প্রবেশ করতে নারাজ, যার কারণে ভারত চীন বিরুদ্ধী ব্লকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলেও F35 যু্দ্ধবিমানের মত সুপেস্টিকেটেড ওয়েপন ভারতকে দিতে রাজি হয় না। 

বাংলাদেশ যদি প্রমাণ করতে পারে যে, আমরা সম্পূর্ণ মার্কিন ব্লকেই প্রবেশ করব, তাহলে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বঝায় রাখতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিকট ভারতের আল্টারনেটিব হবে, ভারত যে যে ইন্টারেস্ট প্রোভাইড করে তার থেকে যদি বাংলাদেশ বেশি ইন্টারেস্ট প্রোভাইড করতে পারে। তাইলে যুক্তরাষ্ট্রের নিকট বাংলাদেশ ভারতের থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। 

নিজেদের গুরুত্ব প্রমাণ করতে আমাদের অবশ্যই শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা ও পশ্চিমা আদলে সামরিক বাহীনিগুলোকেও ডেলে সাজাতে হবে। যদি বাংলাদেশ নিজেদের গুরুত্ব প্রমাণ করতে সক্ষম হয় তাহলে হয় দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ অমেরিকার নিকট দ্বিতীয় ইসরাইল তথা ইসরাইলের মত গুরুত্বপূর্ণও হয়ে উঠতে পারে। আর তা ডিফেন্ড করবে অবশ্যই আমাদের ক্রেডিবিলিটির উপর।

Post a Comment

Previous Post Next Post