Photo:Mig29 aircraft of Bangladesh Air force. |
দেশীয় সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে আমরা জানি, Bangladesh Air Force এর বহরে থাকা ৮টি Mig29 fulcrum যু্দ্ধবিমানকে বেলারুশ থেকে BM স্টান্ডার্টে আফগ্রেড করা হচ্ছে এবং ইতিমধ্যে ৪টির আফগ্রেডেশন শেষে বাংলাদেশে ফিরে এসেছে। যদিও বাংলাদেশ যে মিগগুলাকে BM স্টান্ডার্টে আফগ্রেড করেছে তার কোন অথেনটিক সোর্স পাওয়া যায় না। তবে এয়ারফোর্স সম্প্রতি Kh31A এন্টিশীপ মিসাইল ক্রয়ের কারণে এটা নিশ্চিত বলা যায় যে, আমাদের মিগগুলা আফগ্রেড করা হয়েছে।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনী এই ৮টি মিগ যু্দ্ধবিমান দিয়ে মূলত মেরিটাইম স্কোয়াড্রন গঠনের পরিকল্পনা করেছে। বাংলাদেশ আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯০শতাংশই হয়ে থাকে সমূদ্র পথে, সাথে সমূদ্রের বিভিন্ন মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য সমূদ্রের নিরাপত্তা বাংলাদেশ জন্য অন্যতম প্রধান বিবেচ্য।
বাংলাদেশের নৌবাহিনীর উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে, তবে কোন যুদ্ধকালীন সময়ে শত্রুর যু্দ্ধবিমানের মেরিটাইম স্ট্রাইকের বিরুদ্ধে কতক্ষণ ঠিকে থাকতে পারবে তা প্রশ্নবিদ্ধ। তাই শত্রুর এয়ারস্ট্রাইক করতে আসা যু্দ্ধবিমান প্রতিরোধ ও শত্রুর যুদ্ধজাহাজ ধংসের জন্য আমাদের বেশ কিছু সংখ্যক যু্দ্ধবিমান দরকার। সে হিসেবে শুধু মাত্র ৮টা Mig29 যু্দ্ধবিমান দিয়ে মেরিটাইম স্কোয়াড্রন গঠন করা বেমানান। একটা এয়ারফোর্সের ভাল পারফরমেন্স পাওয়ার জন্য ইফেক্টিব ফরমেশন গঠন গুরুত্বপূর্ণ।
আমাদের ৮টি Mig29 যু্দ্ধবিমানের মধ্যে ২টি ট্রেনার যুদ্ধবিমান, বাকি থাকে আর ৬টি যা যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে পারবে, প্রতি ফরমেশন যদি তিনটি করে এয়ারক্রাফট কনসিস্ট করে ফরমেশন গঠন করা হলে দুইটি ফরমেশন গঠন করা সম্ভব। তবে এয়ারক্রাফটের সর্বদা সার্ভিস এভ্যাইবিলিটি শতভাগ থাকে না, মেইনটেইনেন্সের জন্য বেশিরমধ্যে সবসময় ৩টা থেকে ৪টা যুদ্ধবিমানই সার্ভিস বা অপারেশন ক্যাপাবল থাকবে।
যার কারণে, বাংলাদেশ বিমান বাহীনির উচিৎ হবে, মেরিটাইম স্কোয়াড্রনকে ৮টি থেকে উন্নীত করে ২৪টি এয়ারক্রাফট রাখার পরিকল্পনা গ্রহন করা, অর্থ্যাৎ আরো ১৬টি এয়ারক্রাফট ক্রয় করা।
এখন আসি, কোন ফাইটার জেট বিমানবাহীনির পছন্দের তালিকায় অগ্রাধিকার পাইতে পারে! যদি বিমানবাহিনী এমন কোন পরিকল্পনা নেয় তবে নিঃসন্দেহে পছন্দের তালিকায় থাকবে মূলত দুইটি যু্দ্ধবিমান, একটি MRCA পোগ্রামের আওতায় যে এয়ারক্রাফটটি ক্রয় করা হবে সেটি, এবং অন্যটি Mig29 fulcrum যু্দ্ধবিমান।
এর বাইরে সম্ভাব্য চাহিদা উপযোগী অন্যান্য এয়ারক্রাফট বাংলাদেশ কখনো ব্যবহার করে নি। তাই তা ক্রয় করতে গেলে পূণঃরায় সবকিছুই শূন্য থেকে শুরু করতে হবে, যেমন পাইলট ট্রেনিং থেকে মেইনটেইনেন্স ফ্যাসিলিটি তৈরিতে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হবে, তাই তা পছন্দপর তালিকায় মোটোও অগ্রাধিকার পাবে না।
আমরা ইতিমধ্যে জানি, MRCA এর আওতায় ১৬টি যু্দ্ধবিমান ক্রয় করা হবে তা খুবই এক্সপেনসিভ এবং তার জন্য প্রায় $৩বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। মেরিটাইম স্কোয়াড্রনের জন্য যদি আলাদা করে একই এয়ারক্রাফট কিনতে চাই তাহলে আমাদের জন্য তা অধিক খরচসাধ্য হয়ে যাবে।
তাই শেষ পর্যন্ত পছন্দের শীর্ষে থাকবে Mug29 Fulcrum যু্দ্ধবিমান এবং বাংলাদেশের উচিৎ হবে Mig29 Fulcrum এর লেটেস্ট ভার্ষন M2 স্টান্ডার্টের যু্দ্ধবিমান ক্রয় করা অথবা কোন দেশ থেকে সেকেন্ড হ্যান্ড কিনে রাশিয়া থেকে তা M2 স্টান্ডার্টে আফগ্রেড করিয়ে নেয়া। এতে মোটামোটি ১৬টি যু্দ্ধবিমান তথা ৪টি করে প্রতি ফরমেশন গঠন করলে মোট ৪টি ফরমেশন গঠন উপযোগী এয়ারক্রাফট সর্বদা অপারেশনের জন্য প্রস্তুত থাকবে।